সিলেটে বডি ক্যামেরা বন্ধ রেখে সার্জেন্ট আলমের দৌরাত্ম্য, পথচারীদের তীব্র ক্ষোভ, সিলেট:সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে বডি ওর্ন (শরীরে জড়ানো) ক্যামেরা বন্ধ রেখে প্রকাশ্যে ৫০% ঘুষ দাবি এবং তা না পেয়ে ৬ হাজার টাকার বিশাল অঙ্কের মামলা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত রাতে (তারিখ উল্লেখ করুন) আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে নগরের ব্যস্ততম রেলগেট মারকাজ পয়েন্ট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম সার্জেন্ট আলম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক এবং সাধারণ পথচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়:ভুক্তভোগী এক মোটরসাইকেল চালককে রেলগেট মারকাজ পয়েন্টে গতিরোধ করেন সার্জেন্ট মামুন। এরপর বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানার ভয় দেখানো হয়।
একপর্যায়ে বিষয়টিকে ‘রফা-দফা’ করার জন্য জরিমানার সমপরিমাণ টাকার ৫০% আড়ালে ঘুষ হিসেবে দাবি করেন ওই সার্জেন্ট। কিন্তু সচেতন ওই বাইকার এবং সেখানে উপস্থিত পথচারীরা স্পটে ঘুষ দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান এবং আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সার্জেন্ট আলম সাথে সাথে চালকের হাতে ৬ হাজার টাকার একটি বিশাল অংকের অনলাইন মামলার স্লিপ ধরিয়ে দেন।সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল, বন্ধ ছিল বডি ক্যামেরা:সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, ডিউটি চলাকালীন পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসএমপির প্রতিটি সার্জেন্টের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ চালু রাখা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ লেনদেন এবং নিজের অন্যায় আড়াল করতেই সার্জেন্ট আলম সুকৌশলে তার বডি ক্যামেরাটি বন্ধ রেখে ডিউটি করছিলেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি কোনো অপরাধ না-ই থাকবে, তবে কেন তিনি সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্যামেরা বন্ধ রাখলেন?
ক্যামেরা বন্ধ রেখে নাগরিকদের হয়রানি করা এবং আড়ালে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া সরাসরি পেশাগত নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।ফুঁসে উঠেছেন চালক ও পথচারীরা:ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী যেকোনো ট্রাফিক অপরাধের জরিমানা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু সার্জেন্টরা স্পটেই ৫০% ক্যাশ টাকা দাবি করে পকেট ভারী করার ধান্দা করে। টাকা না দিলে ইচ্ছামতো বড় অংকের মামলা দিয়ে হয়রানি করা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
আইনি প্রতিকার ও ভুক্তভোগীদের প্রস্তুতি:এদিকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দমে না গিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী বাইকার ও স্থানীয় সচেতন মহল। এই সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এর উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। অভিযোগে ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় (রাত ১০:২০ মিনিট), স্থান, অভিযুক্ত সার্জেন্ট আলমের নাম এবং ক্যামেরা বন্ধ রেখে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করা হচ্ছে। একই সাথে ঘটনার সময়কার আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ তল্লাশির আবেদনও জানানো হবে।সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একজন সার্জেন্ট আলমের এমন অপেশাদার এবং দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণের কারণে গোটা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই ক্যামেরা বন্ধ রাখা দুর্নীতিবাজ সার্জেন্টের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে— এটাই এখন সিলেটের সাধারণ মানুষের দাবি।


