ঢাকাThursday , 23 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অতিবৃষ্টি ও বন্যায় জেলায় কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন শাকসবজির দাম বেড়েছে হিমসিম খাচ্ছে ক্রেতারা

Link Copied!

এস, আর শরিফুল ইসলাম রতন | লালমনিরহাট প্রতিনিধি | Bartashindhu.com

টানা অতিবৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যার কারণে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় শাকসবজির ক্ষেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গিয়ে কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরাও।

কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। ফলে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে অনেক বেড়ে গেছে।

জেলা সদরের বড়বাড়ী ও পৌরসভার গোশালা বাজারের পাইকারি আড়তে প্রতি ধারা (৫ কেজি) কাঁচামরিচ ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম ১৬০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও শাহাবুদ্দিন হক জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে কৃষকদের সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

বড়বাড়ী সবজি আড়তের পাইকারি ব্যবসায়ী আশরাফুল হক বলেন, ঢাকাসহ দেশের বড় বড় বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব লালমনিরহাটের বাজারেও পড়েছে।

গোশালা বাজারে সবজি বিক্রি করতে আসা কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যারা কিছু ফসল রক্ষা করতে পেরেছেন, তারা বর্তমানে ভালো দাম পেলেও ক্ষতির তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

এদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেটের ক্রেতা আলমুদ্দিন ও নিজামি রহমান বলেন, আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমান বাজারে সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটল ৬০ টাকা, ছোট করলা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, টমেটো ১৮০ টাকা, আদা ২০০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৪০ টাকা, ধনিয়াপাতা (পোয়া) ১০০ টাকাসহ বিভিন্ন সবজি উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

বড়বাড়ী সবজি আড়তের ইজারাদার মোশারফ আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। তবে মাঠের পানি নেমে গেলে উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে।