ঢাকাThursday , 2 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ: অক্সিজেন না পেয়ে যুবকের মৃত্যুর দাবি স্বজনদের

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আয়রা নেওয়াল সুলতানা টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও জরুরি সেবা প্রদানে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, সময়মতো জরুরি চিকিৎসা ও অক্সিজেন না পাওয়ার কারণেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্পন্ন হয়নি।

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ যুবককে গুরুতর শ্বাসকষ্টের অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার পর তাকে জরুরি বিভাগে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রোগীকে ফ্লোরে ফেলে রাখা হয়েছিল এবং এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা শুরু করা হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছিল। তিনি শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিলেন এবং বারবার অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছিলেন। এ অবস্থায় স্বজনরা কর্তব্যরত কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে বারবার অনুরোধ করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার আনা হলেও সেটি খালি ছিল। পরিবারের দাবি, কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হওয়ার আগেই যুবকটির মৃত্যু ঘটে।

নিহতের মায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে তার ছেলে বুক চাপড়াচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, “মা, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।” একই সঙ্গে পাশে থাকা ভাইকে উদ্দেশ করে বলছিলেন, “আমাকে বাঁচাও ভাই।” সন্তানের এমন অসহায় আকুতির কথা বলতে গিয়ে মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের অনেকেই ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার পর হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বজনরা অভিযোগ করেন, জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত তদারকি ছিল না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা গেছে। তাদের দাবি, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার পরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়নি।

এ ঘটনার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক সেবাব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক রোগী ও স্বজন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, হাসপাতালে আয়া, ওয়ার্ড বয় বা ওয়ার্ড গার্লদের একটি অংশ বকশিশ ছাড়া প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে অনীহা দেখান। তাদের মতে, রোগীকে বেডে তোলা, পরীক্ষার জন্য নেওয়া, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দেওয়া কিংবা অন্যান্য কাজে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবু স্থানীয়দের মধ্যে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে বলে কয়েকজন জানান।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো সরকারি হাসপাতালে রোগীকে জরুরি বিভাগে আনার পর দ্রুত ট্রায়াজ, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অক্সিজেনসহ জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর ক্ষেত্রে সময়মতো অক্সিজেন সরবরাহ না হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগ উঠলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহলও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত অক্সিজেন, কার্যকর সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে আর কোনো রোগী যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সে জন্য হাসপাতালের সেবাব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা জরুরি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই হাসপাতালের জরুরি সেবা ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, ঘটনার সব দিক যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তাদের মতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা প্রয়োজন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে রোগীর চাপ, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে। তবে স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীরা বলছেন, রোগীর চাপ যাই থাকুক না কেন, জরুরি অবস্থায় জীবনরক্ষাকারী সেবা প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।

এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য মূলত নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তে যে তথ্য উঠে আসবে, সেটিই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সন্তান হারানো এক মায়ের আহাজারি, পরিবারের সদস্যদের ক্ষোভ এবং হাসপাতাল সেবাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ওঠা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ঘটনাটি টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা ও সেবার মান নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সবার নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।