ঢাকাTuesday , 30 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১১ নং আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী শাহ জান্নাতুল নাঈম: পরিবর্তনের প্রত্যাশায় মাঠে সক্রিয়

Link Copied!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | Bartashindhu.com

আসন্ন ১১ নং আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকাজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহ জান্নাতুল নাঈমের নাম। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

শাহ জান্নাতুল নাঈম ময়মনসিংহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকার বিভিন্ন গ্রাম, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত শুনছেন। তার ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।

শাহ জান্নাতুল নাঈম বলেন, “আমতৈল ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে একটি সেবামূলক ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। জনগণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, কৃষকদের সহযোগিতা, যুব সমাজের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়গুলোকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, বেকারত্ব, কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা প্রত্যাশা রয়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখেই প্রার্থীরা নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

শাহ জান্নাতুল নাঈমের সমর্থকদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলেও তারা মনে করেন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মূলত স্থানীয় জনগণের আস্থা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে। তাই নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচনী প্রচারণায় শাহ জান্নাতুল নাঈম উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সরকারি সেবায় দুর্নীতি ও অনিয়ম কমানো এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

এছাড়া কৃষিনির্ভর এলাকার উন্নয়নে কৃষকদের সহজে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, নারীদের আত্মকর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে ইউনিয়ন পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় প্রবীণ নাগরিকদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জনগণের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক থাকা। তারা আশা করছেন, নির্বাচনে যে-ই বিজয়ী হোন না কেন, তিনি যেন দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন।

সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে চান, যিনি নিয়মিত জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং নির্বাচনের পরও মানুষের পাশে থাকবেন।

নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও ভোটাররা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন। তারা চান, সবাই সমান সুযোগ নিয়ে প্রচারণা চালাবেন এবং জনগণ তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক সেবা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তায়।

শাহ জান্নাতুল নাঈম বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও দোয়াই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারলে উন্নয়নের পথ আরও সহজ হবে।”

এদিকে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন। শাহ জান্নাতুল নাঈমও নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবসম্মত হবে এবং নির্বাচনের পর জনগণের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তারা একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চান।

(বিঃদ্রঃ: এই প্রতিবেদনে শাহ জান্নাতুল নাঈমের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও বক্তব্য তার নিজস্ব অবস্থান এবং সমর্থকদের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন-সংক্রান্ত সকল তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল।)