ঢাকাSunday , 17 May 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জমিতে কোমরসমান পানি, শ্রমিক সংকটে দিশাহারা কৃষক

Link Copied!

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটের বিলাঞ্চলের ধান তলিয়ে, দিশেহারা কৃষক

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বিলাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে কোমরসমান পানি জমে থাকায় পাকা ধান কাটতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকেরা। এর সঙ্গে শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির চাপ যোগ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার বিলডোরা ইউনিয়নের টিলাপুড়ি ও খাওয়াপুড়ি এবং ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের মাটিখলার গেইর বিল এলাকার বিস্তীর্ণ জমি পানিতে ডুবে রয়েছে। পানির চাপে অনেক ধানগাছ হেলে পড়েছে। দ্রুত ধান কাটতে না পারলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

বিলডোরা এলাকার কৃষক শামসুল ইসলাম বলেন,
“খাওয়াপুড়ি বিলে ৩৫ শতাংশ জমিতে বোরো ধান লাগাইছিলাম। খেতে কোমরসমান পানি। কামলাও পাই না। যারা আসে তারাও পানিতে নেমে ধান কাটতে চায় না। এই জমির ধানের ভাত দিয়া সারা বছর চলি। এখন খেতের যে অবস্থা, ধান কাটারও উপায় নাই।”

টিলাপুড়ি এলাকার কৃষক এরশাদ ঠাকুর বলেন,
“জমিতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে ধান কেটে উঁচু জায়গায় স্তূপ করে রাখছি।”

আরেক কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, বর্তমানে একজন শ্রমিককে ধান কাটতে দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। এছাড়া ধান মাড়াইয়ের পর ট্রলিতে বহন ও ঘরে তুলতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন,
“সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়েনি। তবুও সারা বছরের খাবারের আশায় ধান ঘরে তুলতেই হবে।”

কৃষকেরা জানান, কেউ কেউ হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করলেও পানিতে তলিয়ে থাকা জমিতে সেই উদ্যোগ সফল হচ্ছে না। ফলে টিলাপুড়ি, খাওয়াপুড়ি ও জামবিল এলাকার কৃষকেরা এবার বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন,
“এ বছর উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বর্তমানে প্রায় ২৩০ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

Bartashindhu.com