ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | Bartashindhu.com
টানা প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারীসহ হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টির ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়।
নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড়, কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকার অলিগলিও পানির নিচে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
হেলথ অফিসার গলির বাসিন্দা হামিদা আক্তার বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বাসায় পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। নিয়মিত কর পরিশোধ করলেও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না।
জামালপুর থেকে রোগী নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক আবুল বাশার জানান, চরপাড়া এলাকায় হাঁটুসমান পানির কারণে কয়েকশ মিটার রাস্তা পার হতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতাল চত্বরেও পানি জমে থাকায় রোগী নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অনেক স্থানে ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিতভাবে ড্রেন খনন ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরে ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, ভোরে হাসপাতাল চত্বরে পানি প্রবেশ করে। দুপুর পর্যন্ত পানি পুরোপুরি নামেনি। বিশেষ করে গাইনি বিভাগের এক নম্বর ওয়ার্ডে পানি ঢুকে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অলিগলিতে বেশি পানি জমেছে এবং অনেক ভবনের মালিক ড্রেনে ময়লা ফেলায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে।


