দীঘিনালা প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উঠে যাওয়ায় দীঘিনালা-মেরুং সড়কের কয়েকটি অংশ ডুবে গেছে। ফলে লংগদুর সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাত থেকে কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টির কারণে মাইনী নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। ওই সময়ে এলাকায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বসতঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।
এদিকে দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে লংগদুর সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে যাত্রী ও স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্টরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
বন্যার পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধানের জমি ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে মাইনী নদীর পানি দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর পানি ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদী ও পাহাড়ি ছড়ার আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।