ঢাকাWednesday , 9 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি আমলের বদলি-পদোন্নতির দায় আমার ওপর চাপাচ্ছে দুদক: আসিফ মাহমুদ

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকারের সময়ে সংঘটিত বদলি ও পদোন্নতির ঘটনাগুলোর দায় তাঁর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে দুদকে দায়ের করা অভিযোগের ঘটনাপ্রবাহ, সরকারি নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ।

প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন নথিপত্র উপস্থাপন করে তিনি দাবি করেন, দুদকের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর সময়কাল মিলছে না।

আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, দুদকের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দুদকের মুখপাত্র জানান, ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দবন্ধটি ভুলবশত ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তা সংবাদে প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য দেওয়ার পরও দুদকের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো সংশোধনী দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মানহানি হয়েছে।

১১২ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব নিয়ে দাবি

দুদকের অভিযোগের একটি অংশের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে তাঁর দাবি, সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে কোনো পদোন্নতি ছাড়াই এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ওই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আপিল নিষ্পত্তির রায়ও দেওয়া হয় বলে জানান আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, ওই রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ১১২ জনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার আদেশটি ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় বাতিল করে।

১৫০ কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন

দুদকের আরেকটি অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দমতো পদায়নের বিনিময়ে প্রায় দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তুতির অভিযোগ করা হয়েছে।

তাঁর প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি হয়েছে ২০২৬ সালের ১১ মে, অথচ তিনি তার আগেই উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। আর সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি হয় ১১ মে ২০২৬। তাহলে বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া এই পদোন্নতির সঙ্গে আমাকে কীভাবে জড়ানো হয়?”

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হলে ২০২৬ সালের ১১ মে জারি হওয়া পদোন্নতির বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বশীলদের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, দুদকের করা অভিযোগের প্রকৃত উদ্দেশ্য দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন নয়; বরং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা এবং গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা।

তবে তিনি বলেন, স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

এদিকে দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের কারণে তাঁর যে মানহানি হয়েছে, সে বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান এনসিপির এই মুখপাত্র।

তবে আসিফ মাহমুদের এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে দুদকের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

বার্তা সিন্ধু ডটকম