এম এইচ রাকিব, বার্তা সিন্দু প্রতিনিধি, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ১২ নম্বর স্বদেশী ইউনিয়নের মিলন বাজার থেকে ভাঙাব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ১.৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। মাত্র তিন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখায় বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে বার্তা সিন্দু ডট কম-এর প্রতিনিধি গিয়ে দেখতে পান, টানা বর্ষণে সড়কের খোয়া ও ইট সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া নির্মিত কালভার্টগুলোর আশপাশের মাটি ধসে পড়ছে। ফলে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমনকি পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন কৃষকরা ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান। কিন্তু বৃষ্টি হলেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, আর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণকাজ শুরুর পর একাধিক কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের কয়েকদিনের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি ভারী যানবাহন চলাচলের সময় একটি কালভার্ট ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর দায়িত্বরত প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুণগত মান নিশ্চিত করে পুনরায় কাজ শুরু করার নির্দেশ দিলেও কিছুদিন পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলেও যথাযথ তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণের অভাবে কাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। মাসের পর মাস কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তিন মাসের কাজ এক বছরেও শেষ হয়নি। এটি স্পষ্ট দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ। আমরা দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগীরা নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট এলজিইডির দায়িত্বরত প্রকৌশলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বার্তা সিন্দু ডট কম-এর প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সড়কের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন, ভিডিওচিত্র ধারণ করেন এবং স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের বক্তব্য সংগ্রহ করেন।


