আহমেদ আকবর | সিলেট | বার্তা সিন্দু ডট কম
দীর্ঘ প্রায় আট বছরের বিরতির পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবারও সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। ওমানভিত্তিক এয়ারলাইন্স সালামএয়ার গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট-মাস্কাট রুটে সরাসরি যাত্রী পরিবহন শুরু করায় সিলেট অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন এই রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ রয়েছে।
এদিকে সালামএয়ারের পর এয়ার আরাবিয়া ও ফ্লাইদুবাইসহ আরও কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সিলেট থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক রুট ও ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সপ্তাহে তিন দিন সালামএয়ারের ফ্লাইট
বর্তমানে প্রতি শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সিলেট-মাস্কাট রুটে সালামএয়ারের এয়ারবাস এ৩২১ উড়োজাহাজ চলাচল করছে। ওভি-৪২২ ফ্লাইটের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
সরাসরি এই ফ্লাইট চালুর ফলে সিলেট বিভাগের যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ঢাকা হয়ে যাতায়াতের প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাতায়াতকারী সিলেট অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য এটি সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রথম দিন ১৩৩ যাত্রী নিয়ে সিলেটে অবতরণ
সালামএয়ারের নিয়মিত ফ্লাইট চালুর প্রথম দিন গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ১৩৩ জন যাত্রী নিয়ে মাস্কাট থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি।
পরে সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট থেকে মাস্কাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় সালামএয়ারের ফ্লাইট।
এ উপলক্ষে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ওমানের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ফাতেহা আহমেদ আল বালুশী, সালামএয়ারের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্টিভেন এলেন, বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহিদী এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সিলেট অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিপুলসংখ্যক সিলেটি নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন। ফলে সিলেট থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষ করে ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সিলেট-মাস্কাট সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হওয়ায় সময়, যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি কমবে।
আগে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যেতে অনেক যাত্রীকে ঢাকা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হতো। এতে অতিরিক্ত সড়ক বা অভ্যন্তরীণ বিমানযাত্রা, সময় ও ব্যয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিও পোহাতে হতো। সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাড়লে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে আরও এয়ারলাইন্সের আগ্রহ
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এয়ার আরাবিয়া, ফ্লাইদুবাইসহ আরও কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এসব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাস্তবায়িত হলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি নতুন নতুন গন্তব্যে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আট বছর পর বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার ইতিহাস নতুন নয়। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করেছিল।
তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় সিলেট বিমানবন্দর থেকে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেনি।
প্রায় আট বছর পর সালামএয়ারের সিলেট-মাস্কাট রুট চালুর মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ বিরতির অবসান হলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিদেশি এয়ারলাইন্সকে সিলেট বিমানবন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লে শুধু প্রবাসী যাত্রী নয়, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগ্রহী অন্যান্য বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলোও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং সিলেটের আকাশপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।


