চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত যানবাহনের গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। টানা তিন দিন ধরে চলা এই সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত গাড়ির চালক ও যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত চাপ ও সরবরাহ না থাকায় অনেক সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধও রাখা হয়েছে।
যেসব স্টেশন চালু রয়েছে, সেখানেও সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না অনেক চালক। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে অনেককে খালি গাড়ি নিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
চালকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের সংকট চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। একটি স্টেশনে গ্যাস পাওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে।
গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও। রাস্তায় সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের অপেক্ষার সময় বেড়েছে। পাশাপাশি কোনো কোনো চালক গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
একজন যাত্রী বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে সিএনজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার গাড়ি পাওয়া গেলেও অনেক সময় চালক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া চাইছেন। এতে সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
চালকদের ভাষ্য, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট দ্রুত কাটবে না। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২১ জুলাই মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দেয়। পরে ৫ আগস্ট সন্ধ্যার পর গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে আবারও সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি।
গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামের পরিবহন খাতে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।


