হালুয়াঘাট প্রতিনিধি | বার্তা সিন্ধু ডট কম
হালুয়াঘাট উপজেলার ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমে একই ব্যক্তির নাম তথ্য সংরক্ষণকারী ও সুপারভাইজার—দুই পদে সুপারিশের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মোঃ আবুল হাসান তাঁর ভুল স্বীকার করে একটি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হালুয়াঘাট উপজেলার ১১ নম্বর আমতৈল ইউনিয়নের মোঃ আবুল হাসানের নাম ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমে তথ্য সংরক্ষণকারী ও সুপারভাইজার—দুই পদেই সুপারিশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বার্তা সিন্ধু ডট কমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি এ বিষয়ে ভুল স্বীকার করে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি পদ বাতিলের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
এক ব্যক্তির দুই পদে সুপারিশ নিয়ে প্রশ্ন
একই কার্যক্রমে একজন ব্যক্তির নাম দুটি পদে সুপারিশ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে বিষয়টি কেন শনাক্ত হয়নি—এ প্রশ্নও উঠেছে।
যদি বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে একই ব্যক্তির নাম দুটি পদে সুপারিশের তালিকায় এসেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিকল্প তালিকায় মোঃ কামরুল হাসান
এদিকে, মোঃ আবুল হাসান একটি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করায় সংশ্লিষ্ট পদে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ১১ নম্বর আমতৈল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ কামরুল হাসানের নাম সামনে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোঃ কামরুল হাসানকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে রিজার্ভ তালিকায় রাখা হয়েছে। এখন আবুল হাসানের এক পদ বাতিলের আবেদন গ্রহণ করা হলে তাঁর স্থলে রিজার্ভ তালিকায় থাকা কামরুল হাসানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে এক পদ বাতিলের আবেদন করায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে দুই পদে একই ব্যক্তির নাম কীভাবে সুপারিশ করা হলো, যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিষয়টি কেন ধরা পড়েনি এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম দুটি পদে এসেছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
স্বচ্ছতা চান স্থানীয়রা
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে প্রার্থী নির্বাচন, যাচাই-বাছাই ও দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাদের মতে, একই ব্যক্তির নাম যদি ভুলবশত দুটি পদে সুপারিশ হয়ে থাকে, তাহলে সেই ভুল সংশোধনের পাশাপাশি কীভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রিজার্ভ তালিকায় থাকা মোঃ কামরুল হাসানকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এখন দেখার বিষয়
মোঃ আবুল হাসানের এক পদ বাতিলের আবেদনের পর উপজেলা প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংশ্লিষ্ট পদে রিজার্ভ তালিকায় থাকা মোঃ কামরুল হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কি না—এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
বার্তা সিন্ধু ডট কম বিষয়টির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে।
সরকারি কোনো কার্যক্রমে প্রার্থী নির্বাচন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের পাশাপাশি ভুলের কারণও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
—বার্তা সিন্ধু ডট কম


