নিজস্ব প্রতিবেদক | Bartashindhu.com
ময়মনসিংহ নগরীতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর রাজিব আহমেদ রুবেল (৩৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ—দুই বিষয়েই তদন্ত চলছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড সংলগ্ন ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজিব আহমেদ রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে রাজিব ওই এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার তিনি একই বাসায় বসবাসকারী এক নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারীকে অসুস্থ অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীর ছেলেরা রাজিবকে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি এবং ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি মদের বোতলও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, শনিবার এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই নারীর ছেলেরা রাজিবকে হত্যা করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
ময়মনসিংহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।”
এদিকে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


