নিজস্ব প্রতিবেদক | বার্তা সিন্দু ডট কম
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. লিটন হাওলাদার (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ/নগদ এজেন্ট সিম টাকার বিনিময়ে অনলাইন জুয়ার কাজে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার লিটন হাওলাদারের বাড়ি খুলনার খালিশপুর থানার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বয়রা পালপাড়া এলাকায়। তাঁর বাবার নাম ফারুক হাওলাদার এবং মায়ের নাম শাহিনুর বেগম।
সিআইডি জানায়, পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর ৩৫, তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২৬। জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে লিটন হাওলাদারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
মামলার তদন্তে এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া শেখ সাখির আহম্মেদ (৩৩) গত ৪ সেপ্টেম্বর আদালতে সোপর্দ হওয়ার পর অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম সরবরাহকারী ১৪ জন দোকানদারের নাম প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার বৈকালী এলাকার ‘লিটন টি স্টল’-এর এজেন্ট লিটন হাওলাদারকে শনাক্ত করা হয়।
পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৪ নভেম্বর সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে তলব করা হয়। সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানান, নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ/নগদ এজেন্ট সিমটি খুলনার বয়রা এলাকার অটোচালক হানিফের কাছে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন দিনের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন।
সিআইডি জানায়, ওই সিমের বিকাশ অ্যাকাউন্টের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে অ্যাকাউন্টটির মাধ্যমে ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকা অনলাইন জুয়ার সাইটে লেনদেন হয়েছে।
সিআইডির দাবি, আগে গ্রেপ্তার হওয়া শেখ সাখির আহম্মেদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে লিটনের সংশ্লিষ্টতার তথ্যের মিল পাওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন ও একটি বিকাশ/নগদ এজেন্ট সিম জব্দ করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে লিটন নিজের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অর্থের বিনিময়ে অনলাইন জুয়ার কাজে ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে মোবাইল আর্থিক সেবার এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের এই অভিযোগ আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা এবং নিজের নামে নিবন্ধিত সিম ও অ্যাকাউন্ট অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।


