স্টাফ রিপোর্ট আলী আকবর বার্তা সিন্ধু ডট কম
সমাজে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে মরণনেশা ইয়াবা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা একশ্রেণীর অসাধু ও প্রভাবশালী মহলের প্রকাশ্য পৃষ্ঠপোষকতায় এই বিষাক্ত মাদক এখন যুবসমাজের হাতের নাগালে।
টাকার বিনিময়ে যারা এই মরণব্যাধিকে সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের অভয় অরণ্য তৈরি করে দিচ্ছে, তারাই সমাজের আসল শত্রু এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বড় ‘ক্যান্সার’ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে। তাদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। টাকার বিনিময়ে এই গডফাদাররা মাদক ব্যবসায়ীদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা দিচ্ছে, যার ফলে খুব সহজেই তরুণদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবা।
এই সর্বনাশা মাদকের নীল দংশনে হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।
স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে এই মরণনেশায়। ইয়াবার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা লিপ্ত হচ্ছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও খুনের মতো ভয়াবহ অপরাধে।
মাদকের এই করাল গ্রাসে প্রতিনিয়ত খালি হচ্ছে হাজারো মায়ের কোল। সন্তানের এমন ধ্বংসাত্মক পরিণতি দেখে বুকফাটা আর্তনাদ আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠছে অসংখ্য পরিবারের বাতাস। সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন থেকে ছিটকে পড়ে অকালেই ঝরে যাচ্ছে বহু তাজা প্রাণ।
সমাজবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এখনই যদি এই মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের পেছনে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আগামী প্রজন্ম সম্পূর্ণ পঙ্গু ও দিশেহারা হয়ে পড়বে। সমাজের এই ‘আসল শত্রু’দের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।


