ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে টানা ২৫ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন আজিজুল হক।
দীর্ঘ এই সময়ে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেওয়ার পাশাপাশি মসজিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও নিজ দায়িত্বে করে আসছেন তিনি। এসব সেবার বিনিময়ে কোনো ধরনের বেতন বা পারিশ্রমিক নেন না আজিজুল হক।
আজিজুল হক বলেন, “আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্যই এসব কাজ করি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মসজিদের সেবা করে যেতে চাই।”
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আজিজুল হক অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় আজান দেওয়ার পাশাপাশি মসজিদ পরিষ্কার রাখার কাজও তিনি নিজ হাতে করে থাকেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মসজিদের সেবায় এত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আর্থিক প্রত্যাশা ছাড়াই কাজ করে যাওয়া সত্যিই বিরল। নিজের সময় ও শ্রম দিয়ে তিনি মসজিদের প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা এলাকার মানুষের কাছে প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছে।
প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এই মসজিদের সঙ্গে আজিজুল হকের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। নিয়মিত মুসল্লিদের কাছে তিনি শুধু মুয়াজ্জিন নন, বরং মসজিদের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় একজন নিবেদিতপ্রাণ সেবক হিসেবে পরিচিত।
বর্তমান সময়ে অধিকাংশ কাজের ক্ষেত্রেই পারিশ্রমিক প্রত্যাশা করা হলেও আজিজুল হকের ২৫ বছরের এই নিঃস্বার্থ সেবা স্থানীয়দের কাছে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মসজিদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, সমাজে এমন নিঃস্বার্থ মানুষের অবদানকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতো মানুষের সেবার গল্প নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
আজিজুল হকের প্রত্যাশা, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন তিনি একইভাবে মসজিদের সেবা করে যেতে পারেন এবং মহান আল্লাহ তাঁর এই শ্রম ও সেবা কবুল করেন।