কুয়েতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে ভিজিট ভিসা এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর বিশেষ সুবিধা। বিশেষ পরিস্থিতিতে এ সুবিধা দেয়ায় কুয়েত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রবাসীরা। তবে সুবিধা বন্ধের পর ভিসা ও ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তার কারণে কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। একইভাবে, ভিজিট ভিসায় কুয়েতে আসা অনেকের পক্ষেও নির্ধারিত সময়ে দেশ ছাড়ার বা ভিসার মেয়াদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে ভিসা ও আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ সুবিধা চালু করে কুয়েত সরকার।প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, যুদ্ধের কারণে কুয়েত সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আকামার মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা দিয়েছিল। যারা দেশে ছিলেন এবং যারা পরিবার নিয়ে কুয়েতে এসেছিলেন, তারাও এই সুবিধা পেয়েছেন। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখের পর আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়বে না।
বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভিজিট ভিসায় অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়। পাশাপাশি, কুয়েতের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদও বাড়ানো হয়। ফলে ভিসা বা ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ বাড়াতে অনেককে আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়ে আবেদন করতে হয়নি।
প্রবাসীদের মতে, কঠিন সময়ে কুয়েত সরকারের এই সিদ্ধান্ত ছিল মানবিক ও সময়োপযোগী। তারা বলেন, কুয়েত সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়ায় আগে যাদের জরিমানা আসত, তাদের আর জরিমানা দিতে হয়নি। এজন্য কুয়েত সরকারের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা জানান।
তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে শেষ হচ্ছে এই বিশেষ সুবিধা। এরপর ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। একইভাবে, কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বৈধতার সময়সীমা কার্যকর হবে।
তাই প্রবাসীদের সাহেল অ্যাপে নিজেদের আবাসন ও ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা যাচাই করে শেষ তারিখ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রবাসীরা বলছেন, নির্ধারিত তারিখের আগেই যেন সবাই আইন মেনে কর্মস্থলে বা গন্তব্যে ফেরার ব্যবস্থা করেন।
বিশেষ সুবিধা বন্ধের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক ভিসা ও ছুটির ব্যবস্থায় ফিরছে কুয়েত। তাই দেশটির প্রচলিত আইন মেনেই ভিসা ও আবাসনসংক্রান্ত সব সেবা নিতে হবে প্রবাসীদের।


