আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহ এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন না করতে নাগরিকদের সতর্ক করেছে পাকিস্তান। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে গ্রেপ্তার, আটক এবং সৌদি আরব থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি দূতাবাস।
গত রোববার সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করে।
দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে পাকিস্তান থেকে সৌদি আরবে যাওয়া ওমরাহযাত্রী ও কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের পর একজনকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়।
দূতাবাস জানিয়েছে, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার আশপাশে ভিক্ষাবৃত্তি এবং অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে। ফলে পাকিস্তানি নাগরিকদের অননুমোদিত কোনো স্থানীয় সেবা গ্রহণ বা প্রদানের মতো কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
আর্থিক সহায়তা বা অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই বৈধ পদ্ধতিতে করার নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস।
ভিসার শর্ত মানার নির্দেশ
সতর্কবার্তায় ভিসার মেয়াদ ও শর্ত মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সৌদি আরবে অবস্থান না করা এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত কর্মকাণ্ডের বাইরে কোনো কাজে যুক্ত না হওয়ার জন্য নাগরিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানি নাগরিকদের সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। এ সমস্যা ঠেকাতে পাকিস্তান এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। হজে যাওয়ার আগে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াবেন না—এমন মুচলেকা নেওয়ার পরও কিছু নাগরিক সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ পাকিস্তানি নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় পাকিস্তান সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছে বলেও জানা গেছে।
সংঘবদ্ধ চক্রের অভিযোগ
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তদন্তেও ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র দরিদ্র মানুষকে হজ বা ওমরাহর ভিসা ও টিকিটের ব্যবস্থা করে সৌদি আরবে পাঠায়। পরে সেখানে ভিক্ষা করে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তারা নিয়ে নেয়।
এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তান ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েক হাজার ব্যক্তিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তির কারণে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ছে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৈধভাবে হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া নাগরিকরা যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে আইনগত জটিলতায় না পড়েন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে পাকিস্তানি দূতাবাস।


