বার্তা সিন্ধু ডেস্ক:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীতে পাঁচ বছরের কন্যাকে নিয়ে এক মায়ের ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা সমাজজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় মানুষের দ্রুত তৎপরতায় মা ও মেয়ে দুজনকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন এবং বিচ্ছেদের পর সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ২৪ বছর বয়সী লাকী আক্তার তার পাঁচ বছরের কন্যা ফাহিমাকে সঙ্গে নিয়ে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মা ও মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করেন।
লাকী আক্তারের বাড়ি নলছিটি উপজেলার হাঁড়িখালী গ্রামে। প্রায় ছয় থেকে সাত বছর আগে নলছিটি শহরের থানারপুল এলাকার সাইদুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের দেড় বছর পর জন্ম হয় তাদের একমাত্র কন্যা ফাহিমার।
লাকীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পারিবারিক অশান্তি, স্বামীর মাদকাসক্তি এবং শাশুড়ির মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। এসব কারণে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তিনি স্বামীকে তালাক দেন। এরপর সন্তানকে নিজের কাছে রাখা নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তার দাবি, সন্তানকে নিয়ে মামলা করার হুমকিসহ নানা চাপের মুখে তিনি চরম মানসিক সংকটে পড়ে যান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক চাপ, বিচ্ছেদ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ অনেক সময় মানুষকে গভীর সংকটে ঠেলে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সময়মতো সহায়তা একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহসিকতা ও মানবিক উদ্যোগে মা ও মেয়ে দুজনই প্রাণে বেঁচে গেছেন। তবে ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে—সংকটে থাকা মানুষদের জন্য আমাদের সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
মানসিক বিপর্যয়ে থাকা মানুষকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়ানো, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এমন একটি সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, যেখানে কোনো মা বা বাবা অসহায়ত্বের চরম মুহূর্তে নিজের বা সন্তানের জীবনকে একমাত্র পথ বলে মনে না করেন।


