নিজস্ব প্রতিনিধি, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ):
একটি সেতু, আর সেটিকে কোনোভাবে চলাচলের উপযোগী রাখতে প্রতিবছরই স্থানীয়দের গুনতে হচ্ছে নিজেদের পকেটের টাকা। শুধু অর্থ নয়, সেতুর বিভিন্ন অংশ মেরামতে দিতে হচ্ছে শ্রমও। বছর ঘুরলেই সেতুর কোনো না কোনো অংশ নষ্ট হচ্ছে, আবার স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা তুলে চলছে মেরামত। সাময়িক সংস্কারের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখা দিচ্ছে নতুন সমস্যা।
এভাবেই বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ একটি স্টিলের সেতুর ওপর ভরসা করে চলাচল করছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলার বাহিরশিমুল গ্রামের চকেরকান্দায় কংশ নদের ওপর নির্মিত স্টিলের সেতুটির বর্তমান চিত্র এমনই। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লেও স্থায়ী সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
প্রতিবছর দেড় লাখ টাকা চাঁদা তুলে মেরামত
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটিকে কোনোভাবে চলাচলের উপযোগী রাখতে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টাকা চাঁদা তুলে ব্যয় করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করা হয় এই অর্থ। সেতুর বিভিন্ন অংশে সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয়রাই উদ্যোগ নিয়ে মেরামতের ব্যবস্থা করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বারবার সাময়িক মেরামত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। মেরামতের কিছুদিন পরই আবার সেতুর বিভিন্ন অংশে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে প্রতি বছরই নতুন করে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।
দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম
চকেরকান্দার এই সেতুটি হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হালুয়াঘাট উপজেলার আমতৈল, চকেরকান্দা, সওয়ারিকান্দা ও বাহিরশিমুলসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এই সেতু ব্যবহার করেন।
অন্যদিকে ফুলপুর উপজেলার নিশুনিয়াকান্দা, চাতুলিয়া, বড় পুটিয়া, গোন্দাপাড়াসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন।
শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হতে হয়।
বর্ষায় বাড়ে আতঙ্ক
বর্ষা মৌসুমে কংশ নদের পানি বৃদ্ধি পেলে সেতুটি পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তখন সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় স্বজনদের।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সেতুটির কোনো অংশ বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন সেতুর আশায় স্থানীয়রা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগে কংশ নদের ওপর নতুন ও টেকসই একটি সেতু নির্মাণের আশায় তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
তাদের প্রশ্ন, প্রতিবছর সাময়িক মেরামতে যদি বিপুল অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হয়, তাহলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না কেন?
স্থায়ী সমাধানের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছর সেতুটি মেরামতের পেছনে যে অর্থ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে, তা দিয়ে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়রা মনে করেন, কংশ নদের ওপর একটি নিরাপদ ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হলে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা দূর হবে। পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তাই জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে চকেরকান্দায় কংশ নদের ওপর দ্রুত একটি নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বার্তা সিন্ধু ডটকম


