সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০২৪ সালে মারা যাওয়া এক যুবকের বিয়ে ২০২৬ সালে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের দাবি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ওই যুবক মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের সনদেও উল্লেখ রয়েছে।
মতিয়ারের বাবা হোসেন আলী অভিযোগ করেন, ছেলের পুরোনো বিয়ের কাবিননামার নকল সংগ্রহ করতে তিনি স্থানীয় কাজী আব্দুল হাইয়ের কাছে যান। এ সময় আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজী তাঁর ছেলের বিয়ের নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন করে তৈরি করা কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করা হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট যুবক এর আগেই, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল মারা গেছেন বলে ইউপি সনদে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে নতুন করে তৈরি করা কাবিননামা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, এরপর কাজী আব্দুল হাই পূর্বের আরেকটি তারিখ উল্লেখ করা কাবিননামার কপি দেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন মৃত ব্যক্তির নামে মৃত্যুর দুই বছর পর বিয়ের রেজিস্ট্রেশন কীভাবে করা হলো এবং এ ক্ষেত্রে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব ও আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এ ধরনের কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, একজন মৃত ব্যক্তির নামে এভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নেই। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নোট: অভিযোগের বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


