ঢাকাWednesday , 19 August 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আটবার মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা, মারা গেলেন ১০১ বছরে

Link Copied!

আটবার মৃত্যুদণ্ড  কার্যকরের মুখোমুখি হয়েও শেষ মুহূর্তে রক্ষা পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময় কারাবন্দি থাকা ব্যক্তিদের একজন ফ্রান্সিস ক্লিফোর্ড ‘ফ্র্যাঙ্ক’ স্মিথ মারা গেছেন। জীবনের ৭০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটানো স্মিথ ১০১ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। জীবনের শেষ সময় তিনি একটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন।

 

১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের গ্রিনউইচে একটি ইয়ট ক্লাবের নৈশপ্রহরী গ্রোভার হার্টকে হত্যার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সে গ্রেপ্তার হন স্মিথ। পরের বছর, ১৯৫০ সালে, প্রথম ডিগ্রির হত্যার দায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

 

এরপর শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তাঁর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল আটবার। প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে আইনি জটিলতা, স্থগিতাদেশ কিংবা ক্ষমার সিদ্ধান্তে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। ফলে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়ার পরও বারবার জীবন ফিরে পান তিনি।

 

১৯৫৪ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময় পর্যন্ত একাধিকবার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ায় স্মিথের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে অন্যতম ব্যতিক্রমী ঘটনা হয়ে ওঠে।

 

বরাবরই দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ

 

দীর্ঘ কারাবাসের পুরো সময়টাতেই স্মিথ হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মামলার প্রমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

 

মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী পরে তাঁর আগের বক্তব্য থেকে সরে আসেন। অন্যদিকে, আরেক বন্দি হত্যাকাণ্ডটির দায় নিজের বলে দাবি করেন। মামলার তদন্তে যুক্ত এক কর্মকর্তার বক্তব্যও স্মিথের বিরুদ্ধে অভিযোগের দৃঢ়তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।

 

এসব কারণে স্মিথের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ছিল। তবে আদালতের রায়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দোষ ঘোষিত হননি।

 

পাখিদের খাবার খাইয়ে পেলেন ‘বার্ডম্যান’ নাম

 

দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যেও স্মিথের ব্যক্তিত্বের একটি ভিন্ন দিক ছিল। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত পাখিদের খাবার খাওয়াতেন। এ কারণে সহবন্দি ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ‘দ্য বার্ডম্যান অব ওসবর্ন’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

 

দশকের পর দশক কারাগারে থাকার কারণে তাঁর জীবন অনেকটাই পরিণত হয়েছিল কারাগারের পরিবেশের সঙ্গে। যে সময়ে তিনি বন্দি হন, তখন আধুনিক প্রযুক্তির বর্তমান যুগের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। সাত দশকের বেশি সময় পর যখন তিনি কারাগারের বাইরে আসেন, পৃথিবী তখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

 

৭০ বছরের বেশি সময় পর প্যারোলে মুক্তি

 

দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০২০ সালে স্মিথকে নজরদারিভিত্তিক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৯৬ বছর। এরপর তাঁকে প্রবীণ কয়েদিদের জন্য নির্ধারিত একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

 

কারাগারের বাইরে জীবনের শেষ কয়েক বছর কাটালেও তাঁর দীর্ঘ বন্দিজীবনের ছাপ থেকে যায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাবন্দিদের একজন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।

 

শেষ হলো এক শতাব্দীর জীবনের নাটকীয় অধ্যায়

 

২৫ বছর বয়সে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক তরুণ থেকে ১০১ বছর বয়সী বৃদ্ধ—ফ্র্যাঙ্ক স্মিথের জীবন ছিল প্রায় আট দশকজুড়ে বিস্তৃত এক অসাধারণ ও বিতর্কিত অধ্যায়।

 

আটবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক চেয়ারে নয়, বার্ধক্যের কাছে হার মানেন। দীর্ঘ ৭০ বছরের বেশি কারাবাস, বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া, নিজের নির্দোষিতার দাবি এবং মামলার প্রমাণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক—সব মিলিয়ে ফ্র্যাঙ্ক স্মিথের জীবন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ও কারাব্যবস্থার ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায় হয়ে থাকবে।