সিসিকের প্রশাসকের সিএ ফয়জুরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, নেপথ্যে প্রকৌশলী রাজিউদ্দিন?
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল ও আবেদন প্রক্রিয়াকরণে ঘুষ নেওয়া এবং সাধারণ নাগরিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রশাসকের কার্যালয়ের সিএ (চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট/পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ফয়জুর রহমানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সিসিকের প্রকৌশলী রাজিউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসকের দপ্তরে কোনো ফাইল বা আবেদন উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ফয়জুর রহমানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের চাপ তৈরি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা কিংবা বিভিন্ন আইনি জটিলতার কথা বলে আবেদনকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
অভিযোগ রয়েছে, সিসিকের প্রকৌশলী রাজিউদ্দিনের বিভিন্ন দাপ্তরিক ও ঠিকাদারি-সংক্রান্ত ফাইল প্রশাসকের কাছে উপস্থাপন এবং অনুমোদনের ক্ষেত্রে ফয়জুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ সুরমার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তিনি একটি জরুরি আবেদন নিয়ে প্রশাসকের দপ্তরে গেলে ফয়জুর রহমান তাঁকে বিভিন্ন আইনি জটিলতার কথা বলে ফিরিয়ে দেন। পরে অন্য একটি মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ দেওয়ার পর তাঁর ফাইল দ্রুত অনুমোদন হয় বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
এদিকে ফয়জুর রহমানের সম্পদ নিয়েও সিসিকের ভেতরে নানা আলোচনা রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, সিসিকের চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস ও আর্থিক অবস্থান তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুধু নাগরিক ও ঠিকাদার নয়, সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
নগরবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সত্য হলে তা সিসিকের সেবাব্যবস্থা ও ভাবমূর্তির জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। তারা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ফয়জুর রহমান ও প্রকৌশলী রাজিউদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
বার্তা সিন্ধু ডট কম
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


