ঢাকা প্রতিনিধি: BARTASHINDHU.COM
সিবিডি অয়েলের মোড়কে অনলাইনে নতুন ধরনের মাদক ‘সিনথেটিক ক্যানাবিজ অয়েল’ বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডায় একটি ল্যাবের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় কেমিস্ট আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএনসির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে সিবিডি অয়েলের বিজ্ঞাপনের আড়ালে কৃত্রিম গাঁজার তেল বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর সাইবার পেট্রোলিং শুরু করা হয়। পরে ক্রেতা সেজে পণ্য অর্ডার করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে একটি প্ল্যাটফর্মে সিবিডি অয়েল বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে গোয়েন্দাদের। এরপর তারা ক্রেতা সেজে ওই পণ্য অর্ডার করেন। কয়েকদিন পর নির্দিষ্ট ঠিকানায় পণ্য পৌঁছে দিলে ডেলিভারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে ডিএনসির নিজস্ব ল্যাবে তেল পরীক্ষা করা হলে এতে গাঁজার সক্রিয় উপাদান টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এরপর তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইকেবানার ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়। রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকার একটি চার কক্ষের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখানে ল্যাবের সন্ধান পান ডিএনসির কর্মকর্তারা।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজার তেলের কাঁচামাল, সিবিডি অয়েল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে কেমিস্ট আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসির দাবি, উদ্ধার হওয়া কাঁচামাল বিদেশ থেকে আনা হতো। পরে তা প্রক্রিয়াজাত ও বোতলজাত করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটে সাবান ও অর্গানিক পণ্য তৈরি করা হয় বলে তারা জানতেন। সেখানে মাদক উৎপাদনের মতো কোনো কার্যক্রম চলছিল—এ বিষয়ে তাদের ধারণা ছিল না।
ডিএনসি আরও জানায়, আনিসুর রহমান পেশায় একজন কেমিস্ট। ২০০৭ সাল থেকে তিনি অর্গানিক সাবান ও তেল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে গত দুই বছর ধরে তিনি গাঁজার তেলের কাঁচামাল এনে তা প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনিসুর রহমান বিদেশ থেকে এসব কাঁচামাল আনার কথা জানিয়েছেন বলে ডিএনসি জানিয়েছে। এর সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা বড় চক্র জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডিএনসির দাবি, অভিযুক্তের কম্পিউটার পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তিনি অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজের নিবন্ধিত সেলার ছিলেন। গত দুই বছরে তার আইডি থেকে প্রায় ৪০০ বোতল গাঁজার তেল বিক্রি হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এরপর রাজধানীর মালিবাগে দারাজের একটি ওয়্যারহাউজেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে নতুন ধরনের এই মাদক বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
মাদক বিক্রিতে সহযোগিতার অভিযোগে সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামেও মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশনস) সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, উদ্ধার হওয়া পদার্থটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত মাদক। এটি বিতরণে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতা ছিল কি না, সে বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে দারাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখনো মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি। তথ্য পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হবে।
ডিএনসি জানিয়েছে, দারাজ ছাড়াও অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা প্রতিষ্ঠান মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করতে সাইবার স্পেসে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
অনলাইনে বৈধ পণ্যের আড়ালে নতুন ধরনের মাদক বিক্রির এই ঘটনা মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসের পণ্য যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
M.H. - Rakib
© স্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তা সিন্দু ডট কম