
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় কান্নাকাটি করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোয় ১৪ দিন বয়সী নিজের নবজাতক সন্তানকে পানির ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভ হোসেনের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম মিয়ামিন হোসাইন। সে সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগম দম্পতির সন্তান। মাত্র ১৪ দিন আগে শিশুটির জন্ম হয়েছিল।
পুলিশ ও শিশুটির স্বজনদের বরাতে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর নবজাতক মিয়ামিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি বলেন, জিন শিশুটিকে নিয়ে গেছে।
ফাতেমার বক্তব্যে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা বিভিন্ন স্থানে শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে বাড়িতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য রাখা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত এবং এতে তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটত—এ কারণে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, মামলায় ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নবজাতক মিয়ামিন হোসাইনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
M.H. - Rakib
© স্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তা সিন্দু ডট কম