নিজেদের ইতিহাসের সেরা জয় থেকে মাত্র ৬ উইকেট দূরে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের হারানো? ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের একটি। সিরিজ শুরুর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে আনকোরা দলের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে লজ্জার মুখে পড়া টাইগাররা ডারউইনে যা করছে তা রীতিমত ব্যাখাতীত। টানা তিনদিন নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখানো বাংলাদেশ এই টেস্টে জয় না পেলেই সেটা বিস্ময় জাগানিয়া হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ৬৭ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে প্যাট কামিন্সের দল।
চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য আর ৬ উইকেট দরকার বাংলাদেশ। অন্যদিকে অজিদের চেষ্টা থাকবে ইনিংস হার ঠেকিয়ে টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেয়া। কিন্তু বাকি ৬ উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিনের উইকেটে কাজটা বেশ কঠিনই হবে।
চতুর্থ দিনের সকালে অজিদের ভরসা ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির জুটি। উইকেটে থিতু গ্রিন ৪৩ রানে ব্যাট করছেন। সঙ্গী ক্যারি অপরাজিত ১৯ রানে। এই জুটিতে এসেছে ৩৯ রান।
এর আগে তৃতীয় দিনে বাকি ৪ উইকেট হারিয়ে আরও ৭৫ রান করে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৬৫ রান করেন। এছাড়া তাইজুল ইসলাম ১৭, হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ ১৪ রান করে করেন।
জশ হ্যাজেলউড ৬ উইকেট শিকার করে নবম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের বিশাল লিড।
দেশের মাটিতে তৃতীয় ইনিংসে এতো বড় রানের লিডকে চ্যালেঞ্জ করে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের রেকর্ড নেই। ডারউইনে অসম্ভবকে সম্ভব করার লক্ষ্যে তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ৩৭ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে বিদায় করেন আগের ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা হাসান। তাতে এই টেস্টে তার শিকারের সংখ্যা দাঁড়াল ৮–এ।
দ্বিতীয় ওভারেই জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করে খাতা খোলেন হাসান। এরপর ১১তম ওভারে ট্রাভিস হেডকেও (১৭) বোল্ড করেন। প্রথম ইনিংসেও হাসানের বলেই বোল্ড হয়েছিলেন এই বাঁহাতি।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হাল ধরেন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ। কিন্তু লাবুশেনকে ফিরিয়ে ৩৬ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৩১ রান করে বোল্ড হন তিনি।
প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক হাঁকানো স্মিথ এই ইনিংসেও অর্ধশতকের পথে ছিলেন। কিন্তু নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে স্মিথকে ফেরান মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ৫ চারে ৪৪ রান করেন তিনি।


