হালুয়াঘাট সীমান্তে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে চোরাচালান বাণিজ্যের অভিযোগ
ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলায় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার চোরাচালান বাণিজ্য চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় জিরা, চিনি, গরু, মহিষ, কসমেটিক্স, বিড়ি, মোবাইলের ডিসপ্লে ও মাদকসহ নানা পণ্য অবাধে দেশে প্রবেশ করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, এসব চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনায় একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সীমান্ত দিয়ে আসা পণ্য বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, হালুয়াঘাট থানার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের জন্য সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, কড়ইতলী, গোবরাকুড়া, গাজিরভিটা, সূর্যপুর, আইলাতলী, ভুটিয়াপাড়া, বান্দরঘাটা ও গাবরাখালীসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু পাচারের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের দুর্গম এলাকা ও কাঁটাতারের ফাঁক ব্যবহার করে রাতের আঁধারে গরু ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং প্রশাসনের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে মাদক ও অবৈধ পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Bartashindhu.com
M.H. - Rakib
© স্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তা সিন্দু ডট কম