প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৮:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ১:৫০ এ.এম
গাজীপুরে ৫ খুন: সবাই ভেবেছিল ফোনে চার্জ নেই, ততক্ষণে সব শেষ!

নতুন জামা-প্যান্ট পরে হাসিমুখে বোনের বাড়ি গিয়েছিল ২২ বছরের তরুণ রসুল মিয়া। কে জানত, সেই হাসিমুখই হবে পরিবারের জন্য শেষ দেখা! শুক্রবার রাতে যখন রসুলের ফোনে বারবার কল দিয়েও পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন স্বজনরা ভেবেছিলেন–হয়তো ফোনে চার্জ নেই, একটু পর রসুল নিজেই কল দেবে। কিন্তু সেই ‘একটু পর’ আর আসেনি। ভোরের আলো ফোটার আগেই জানা গেল, রসুল আর নেই; সঙ্গে নেই তার বোন শারমিন আর তিন আদরের ভাগনিও।
শনিবার (৯ মে) সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে একই পরিবারের পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন শিশুকন্যা মীম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শারমিন আক্তারের স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। প্রায় দেড় যুগ আগে ফোরকান মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শারমিনের। তিন সন্তান নিয়ে এই দম্পতি কাপাসিয়ায় থাকতেন। ফোরকান পেশায় কারচালক।
বিভিন্ন আলামত ও স্বজনদের ভাষ্য থেকে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ‘পারিবারিক কলহের’ জেরে ফোরকান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
জানা যায়, শারমিনের ভাই রসুল মোল্লা গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন; থাকতেন বড় বোন ফাতেমার বাসায়। শুক্রবার তিনি শারমিনের বাসায় যান।
গোপালগঞ্জের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়ায় এখন চলছে মাতম। মৃত দুই সন্তান ও তিন নাতনির শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা ফেরেজা বেগম। বিলাপ করতে করতে তিনি বলছিলেন, ‘আমার বাজান কাল নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গেছে। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে।’
শারমিন-রসুলদের এক স্বজন বলেন, শুক্রবার শারমিনের বাসায় যাওয়ার পর রাত ৮টার দিকে রসুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, “সবাই ভেবেছিল, ফোনে হয়তো চার্জ নেই। ভোর সাড়ে ৫টায় ফোরকান মিয়ার ভাই জব্বার মিয়া ফোন করে বলেন যে শারমিনের বাসার সবাই মারা গেছে। কীভাবে মারা গেল জানতে চাইলে সে বলে, ফোরকান তাদের ফোন করে জানিয়েছে, ‘পরিবারের সবাইকে শেষ করে ফ্যালাইছি, আমাকে খুঁজলে পাওয়া যাবে না’। এই বলে তিনি নাকি ফোন কেটে দেন।’
শাহাদাত মোল্লা ও ফেরেজা বেগম দম্পতির চার মেয়ে ও তিন ছেলে। এরমধ্যে শারমিন আক্তার তৃতীয় সন্তান; রসুল সবার ছোট। বড় মেয়ে বিয়ের কয়েক বছর পর মারা যান। এখন একসঙ্গে আরও ২ সন্তান হারালেন এই দম্পতি।
M.H. - Rakib
© স্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তা সিন্দু ডট কম